এখানে রোকন সিলেবাস সব পাওয়া যাবে। ইনশাআল্লাহ !

যাকাত দেওয়ার নিয়ম-Rules for giving Zakat

যাকাত কী? যাকাত (Zakat) ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি এক ধরনের বাধ্যতামূলক দান, যা মুসলিমদের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য প্রদান করতে হয়। যাকাত ইসলামী অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার একটি অন্যতম মাধ্যম এবং এটি ধনীদের সম্পদ পরিশুদ্ধ করে ও সমাজে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে। 🔹 যাকাতের সংজ্ঞা: 📖 আরবি অর্থ: "যাকাত" শব্দটি زَكَاةٌ (Zakah) থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিশুদ্ধি (Purification), বৃদ্ধি (Growth) এবং কল্যাণ (Blessing) । 📖 ইসলামী সংজ্ঞা: "শরিয়ত-প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলা হয়।" যাকাতের আটটি খাত কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সূরা আত-তাওবা (৯:৬০) আয়াতে। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন— 🔹 কুরআনের আয়াত: إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱلْعَٰمِلِينَ عَلَيْهَا وَٱلْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِى ٱلرِّقَابِ وَٱلْغَٰرِمِينَ وَفِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِ...

সূরা আল-লাইল - Surah Al-Layl

সূরা আল-লাইল (সূরা নম্বর ৯২) কুরআনের একটি মক্কী সূরা, যাতে মোট ২১টি আয়াত রয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ সূরাটি দেওয়া হলো: পরের সূরা..

Audio

সূরা আল-লাইল (রাত)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

১. وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ

— শপথ রাত্রির, যখন তা আচ্ছাদিত করে।

২. وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ
— এবং দিনের, যখন তা প্রকাশ পায়।

৩. وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ
— এবং সেই সত্তার, যিনি সৃষ্টি করেছেন নর ও নারীকে।

৪. إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ
— নিশ্চয়ই তোমাদের কর্মভেদ রয়েছে।

৫. فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَاتَّقَىٰ
— অতএব, যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে,

৬. وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَىٰ
— এবং উত্তমের (পুরস্কারের) সত্যতা স্বীকার করে,

৭. فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَىٰ
— তাকে আমরা সহজ পথের জন্য সুগম করে দেব।

৮. وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَىٰ
— আর যে কৃপণতা করে ও নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে,

৯. وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَىٰ
— এবং উত্তমের (পুরস্কারের) সত্যতাকে অস্বীকার করে,

১০. فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَىٰ
— তাকে আমরা কঠিন পথের জন্য সুগম করে দেব।

১১. وَمَا يُغْنِي عَنْهُ مَالُهُ إِذَا تَرَدَّىٰ
— আর তার সম্পদ তাকে কিছুই কাজে আসবে না, যখন সে ধ্বংসে পতিত হবে।

১২. إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ
— নিশ্চয়ই হেদায়েতের ব্যবস্থা আমাদেরই দায়িত্ব।

১৩. وَإِنَّ لَنَا لَلْآخِرَةَ وَالْأُولَىٰ
— এবং অবশ্যই আখিরাত ও দুনিয়া উভয়ই আমাদেরই।

১৪. فَأَنذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظَّىٰ
— সুতরাং আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি এক জ্বলন্ত অগ্নির ব্যাপারে,

১৫. لَا يَصْلَاهَا إِلَّا الْأَشْقَى
— এতে প্রবেশ করবে কেবল সেই দুর্ভাগা,

১৬. الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ
— যে (সত্যকে) অস্বীকার করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

১৭. وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى
— কিন্তু সেই পরহেযগার ব্যক্তি (এ থেকে) দূরে রাখা হবে,

১৮. الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّىٰ
— যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে সম্পদ দান করে,

১৯. وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَىٰ
— কাউকে প্রতিদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়,

২০. إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَىٰ
— বরং তার পরম প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য।

২১. وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ
— এবং সে অবশ্যই সন্তুষ্ট হবে।

- নামকরণঃ- 

এই সূরার প্রথম আয়াতেই "اللَّيْلِ" (আল-লাইল) শব্দটি এসেছে, যার অর্থ "রাত"। সাধারণত কুরআনের সূরাগুলোর নামকরণ তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু বা সূরার কোনো বিশেষ শব্দের ওপর ভিত্তি করে করা হয়।

-- নাযিলের সময়কাল:

সূরা আল-লাইল একটি মক্কী সূরা, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মক্কী জীবনের শুরুর দিকে নাযিল হয়েছে।

সম্ভাব্য সময়কাল:

  • এটি মক্কার সেই সময় নাযিল হয়, যখন ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।
  • কুরআনের অন্যান্য মক্কী সূরার মতোই, এটি তাওহীদ (একত্ববাদ), পরকালের প্রতিদান, এবং ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য স্পষ্ট করে।
  • এই সূরার বাণী বোঝায় যে, এটি রাসূল ﷺ-এর দাওয়াত প্রচারের প্রথম দিকের সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন মক্কার কুরাইশদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে দ্বিধা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল।

এই সূরার শুরুতেই "শপথ রাত্রির, যখন তা আচ্ছাদিত করে" বলা হয়েছে, যা রাতের গুরুত্ব ও প্রভাবকে তুলে ধরে। তাই এই সূরার নাম "আল-লাইল" রাখা হয়েছে, যা সরাসরি এর প্রথম আয়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সূরা আল-লাইল: বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

🌙 বিষয়বস্তু:

সূরা আল-লাইল মানুষের কর্ম, তার পরিণতি এবং দানের মহত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এতে রাত ও দিনের বিপরীততা ব্যবহার করে জীবনের দুটি পথ দেখানো হয়েছে—সৎকর্মের পথ এবং অসৎকর্মের পথ।

এই সূরার মূল বিষয়গুলো হলো:

  1. রাত ও দিনের শপথ: আল্লাহ রাত ও দিনের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃতির এক অপূর্ব বাস্তবতা তুলে ধরেন।
  2. মানুষের কর্ম দুই প্রকার: কেউ দানশীল ও পরহেজগার, আবার কেউ কৃপণ ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারী।
  3. সৎকর্মের পুরস্কার: যারা সৎকর্ম করে ও দান করে, আল্লাহ তাদের জন্য সহজ পথ তৈরি করে দেন।
  4. অসৎকর্মের শাস্তি: যারা কৃপণতা করে ও সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য কঠিন জীবন নির্ধারিত থাকে।
  5. পরকালের ফলাফল: ভালো কাজ করলে জান্নাতের নেয়ামত, আর খারাপ কাজ করলে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি অনিবার্য।

📖 মূল বক্তব্য:

  1. মানুষের জন্য দুটি পথ আছে—সৎকর্ম ও তাকওয়ার পথ এবং পাপ ও অবাধ্যতার পথ।
  2. সৎকর্মের পথ সহজ হয়ে যায় আল্লাহর অনুগ্রহে, কিন্তু পাপের পথ কঠিন ও ধ্বংসাত্মক।
  3. পরকালই আসল লক্ষ্য: দুনিয়ার সম্পদ ও ক্ষমতা অস্থায়ী, প্রকৃত সফলতা আখিরাতে নির্ভরশীল।
  4. দানশীলতা ও তাকওয়া মুক্তির কারণ: যারা সম্পদ দান করে ও নিজেদের পরিশুদ্ধ করে, তারা আখিরাতে শান্তি পাবে।
  5. দুর্ভাগাদের জন্য শাস্তি: যারা অহংকারী ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারী, তারা চরম শাস্তির সম্মুখীন হবে।

🔍 সারসংক্ষেপ:

সূরা আল-লাইল আমাদের শেখায় যে মানুষ নিজে তার ভবিষ্যৎ তৈরি করে—সৎকর্ম করলে সফলতা, আর অসৎকর্ম করলে ধ্বংস অনিবার্য। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করা ও তাকওয়া অবলম্বন করাই প্রকৃত মুক্তির পথ। 

মন্তব্যসমূহ