এখানে রোকন সিলেবাস সব পাওয়া যাবে। ইনশাআল্লাহ !

যাকাত দেওয়ার নিয়ম-Rules for giving Zakat

যাকাত কী? যাকাত (Zakat) ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি এক ধরনের বাধ্যতামূলক দান, যা মুসলিমদের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য প্রদান করতে হয়। যাকাত ইসলামী অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার একটি অন্যতম মাধ্যম এবং এটি ধনীদের সম্পদ পরিশুদ্ধ করে ও সমাজে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে। 🔹 যাকাতের সংজ্ঞা: 📖 আরবি অর্থ: "যাকাত" শব্দটি زَكَاةٌ (Zakah) থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিশুদ্ধি (Purification), বৃদ্ধি (Growth) এবং কল্যাণ (Blessing) । 📖 ইসলামী সংজ্ঞা: "শরিয়ত-প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলা হয়।" যাকাতের আটটি খাত কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সূরা আত-তাওবা (৯:৬০) আয়াতে। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন— 🔹 কুরআনের আয়াত: إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱلْعَٰمِلِينَ عَلَيْهَا وَٱلْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِى ٱلرِّقَابِ وَٱلْغَٰرِمِينَ وَفِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِ...

সূরা আল-লাহাব-Surah Al-Lahab

সূরা আল-লাহাব (সূরা নম্বর: ১১১)

Audio

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে, যিনি পরম দয়ালু, অতি দয়াশীল।

1️⃣ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ

ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত, এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।

2️⃣ مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ

তার ধন-সম্পদ এবং যা কিছু সে উপার্জন করেছে, তা তার কোনো কাজে আসেনি।

3️⃣ سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ

সে প্রবেশ করবে দাউ দাউ জ্বলতে থাকা অগ্নিতে।

4️⃣ وَٱمْرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلْحَطَبِ

আর তার স্ত্রীও—যে ছিল জ্বালানিবাহী (পরনিন্দাকারী)।

5️⃣ فِى جِيدِهَا حَبْلٌۭ مِّن مَّسَدٍۭ

তার গলদেশে থাকবে খেজুর বৃক্ষের মোটা রশি।

নামকরণ:

এই সূরার নাম "আল-লাহাব" (اللہب) রাখা হয়েছে এর তৃতীয় আয়াতে উল্লেখিত "لَهَبٍ" (লাহাব) শব্দের ভিত্তিতে, যার অর্থ "জ্বলন্ত আগুনের শিখা"। এই সূরায় আবু লাহাবের ধ্বংস ও তার জন্য জাহান্নামের শাস্তির বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাই এ নামকরণ করা হয়েছে।

এছাড়া এই সূরাকে "সূরা তাব্বত" নামেও ডাকা হয়, কারণ এর প্রথম আয়াত "تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ" থেকে "তাব্বত" শব্দটি এসেছে, যার অর্থ "ধ্বংস হোক"

নাযিলের সময়কাল:

সূরা আল-লাহাব মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এটি মাক্কী সূরা

🔹 ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, এই সূরা নাযিল হয় সেই সময়, যখন নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমবার প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। একদিন তিনি সাফা পাহাড়ে উঠে কুরাইশদের সম্বোধন করলে তার চাচা আবু লাহাব বিদ্রূপ করে বলেছিলঃ
❝তুমি কি আমাদের এ জন্য ডেকেছ? তোমার ধ্বংস হোক!❞
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭৭০)

🔹 এরপরই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই সূরা নাজিল করেন, যাতে আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর পরিণতি জানিয়ে দেওয়া হয়।

🔹 এটি ছিল ইসলামের শত্রুদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যদ্বাণী, যা পরে বাস্তবেও পরিণত হয়—আবু লাহাব বদনাম হয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং তার স্ত্রীও অপমানজনক পরিণতি ভোগ করে।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য:

🔹 বিষয়বস্তু:
এই সূরায় ইসলামের চরম শত্রু আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিল-এর ধ্বংস ও পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক সূরা, যেখানে আবু লাহাবের ধ্বংস নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তার সম্পদ ও ক্ষমতা তাকে কোনো উপকার করবে না বলে জানানো হয়েছে।

🔹 মূল বক্তব্য:
1️⃣ আবু লাহাবের ধ্বংস অনিবার্য:

  • সে নবী (সা.)-কে কটূক্তি করেছিল এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল, তাই আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, সে ধ্বংস হবে এবং চিরকাল জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।

2️⃣ সম্পদ ও প্রতিপত্তি রক্ষা করতে পারবে না:

  • আবু লাহাব খুব ধনী ও ক্ষমতাবান ছিল, কিন্তু তার ধন-সম্পদ তাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

3️⃣ তার স্ত্রীও শাস্তি ভোগ করবে:

  • তার স্ত্রী উম্মে জামিল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত ও নবী (সা.)-এর পথে কাঁটা বিছাত। তাই তাকে "জ্বালানিবাহী" বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, সে জাহান্নামে অপমানজনক শাস্তি পাবে।

4️⃣ একটি ভবিষ্যদ্বাণী যা সত্য প্রমাণিত হয়েছে:

  • এই সূরার অবতরণের পরও আবু লাহাব দীর্ঘদিন জীবিত ছিল, কিন্তু সে কখনো ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং অবশেষে কষ্টদায়ক রোগে (প্লেগ বা সংক্রামক ফোঁড়ার রোগ) আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

🔹 এই সূরার শিক্ষা:
✅ আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণকারী ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করা মানুষ কখনো সফল হয় না।
✅ ধন-সম্পদ ও ক্ষমতা আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারে না।
✅ যারা অন্যের ক্ষতি করে, তারাও শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়।

উপসংহার:

🔹 সূরা আল-লাহাব ইসলামের অন্যতম শক্তিশালী বার্তাবাহী সূরাগুলোর একটি, যেখানে আল্লাহ তাআলা ইসলামের এক প্রধান শত্রু আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের নিশ্চিত ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি কেবল একটি নিন্দাসূচক সূরা নয়; বরং এটি ইসলামের শত্রুদের জন্য একটি ঐশী সতর্কবার্তা

🔹 এই সূরার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে,
✅ ইসলামের বিরোধিতা করা এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা ধ্বংসের কারণ।
✅ সম্পদ, ক্ষমতা ও পারিবারিক মর্যাদা কাউকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না।
✅ যারা সত্যের বিরোধিতা করে এবং মিথ্যার প্রচার করে, তাদের শেষ পরিণতি অপমানজনক ধ্বংস।

🔹 আবু লাহাবের মৃত্যুর ঘটনা এই সূরার সত্যতাকে আরো সুস্পষ্ট করে তুলে ধরে।
তাকে এমন এক সংক্রামক রোগে (বলা হয় প্লেগ বা কুষ্ঠ) আক্রান্ত করে মৃত্যু দেওয়া হয়, যার কারণে লোকজনও তার মৃতদেহের কাছে আসতে ভয় পেত। পরবর্তীতে তাকে অপমানজনকভাবে ধুলোমাটিতে ফেলে পাথর দিয়ে চাপা দেওয়া হয়

🔹 এই সূরার শিক্ষা আমাদের জন্য:
✔ সত্যের বিরোধিতা না করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর পথে থাকা।
✔ সম্পদ ও ক্ষমতার গর্ব না করা, বরং সেগুলো সঠিক পথে ব্যয় করা।
✔ মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা, কারণ মন্দের পরিণতি ধ্বংস অনিবার্য।

🔹 অবশেষে, এই সূরা কিয়ামত পর্যন্ত প্রমাণ করে যে, যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, তারা অবশ্যই ব্যর্থ ও লাঞ্ছিত হবে।


মন্তব্যসমূহ